মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বর্তমানে বিপুল বিতর্কের মুখে আছেন। মাদক পাচারকারী সন্দেহে নৌকায় হামলা, ইয়েমেনে সামরিক অভিযান সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ‘সিগন্যাল’ অ্যাপে আলোচনা এবং অতীতের নানা কেলেঙ্কারি নিয়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছে।
হেগসেথ, যিনি আগে ফক্স নিউজের সহ-উপস্থাপক ছিলেন, চলতি বছরের শুরুতে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন। তবে নিযুক্তির পর থেকেই তিনি বিতর্কের মুখে পড়েছেন।
একদিকে, গত ২ সেপ্টেম্বর প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী সন্দেহে নৌকার ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে সমালোচনা বেড়েছে। প্রথম হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের পরে দ্বিতীয় হামলায় হত্যা করা হয়। যদিও হেগসেথ ও হোয়াইট হাউস দাবি করেছেন, দ্বিতীয় হামলার সিদ্ধান্ত নেননি অপারেশনাল কমান্ডার অ্যাডমিরাল ফ্রাঙ্ক ব্র্যাডলি।
অন্যদিকে, ইয়েমেনে চালানো হামলার আগে হেগসেথ ‘সিগন্যাল’ অ্যাপে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য শেয়ার করেছিলেন। এতে তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলে ‘মার্কিন পাইলটদের সম্ভাব্য ক্ষতি’ হতে পারত বলে পেন্টাগনের স্বাধীন মহাপরিদর্শকের কার্যালয় উল্লেখ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হেগসেথ ট্রাম্পের আস্থা বজায় রেখেছেন, যদিও কিছু রিপাবলিকানের সমর্থন হারিয়েছেন। তবে হেগসেথকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে হোয়াইট হাউস হয়তো অন্য কোথাও তাঁকে সরানোর চেষ্টা করবে।
এছাড়া হেগসেথের অতীতেও বিতর্ক রয়েছে। সাবেক আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের মেজর হিসেবে তিনি বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থায় আর্থিক অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং যৌন হয়রানির অভিযোগে জড়িত ছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের পরেও এই কেলেঙ্কারিগুলো নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
আইনপ্রণেতাদের মধ্যে কিছু ডেমোক্র্যাটিক সদস্য হেগসেথের পদত্যাগ বা বরখাস্তের দাবি তুলেছেন। তবে আপাতত তিনি তাঁর পদে নিরাপদ বলে মনে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভবিষ্যতে যদি আরেকটি কেলেঙ্কারি ঘটে, হোয়াইট হাউস ধৈর্য হারাতে পারে।
হেগসেথের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দেশীয় রাজনৈতিক চাপ, অতীতের অভিযোগ এবং সামরিক সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত বিতর্ক সব মিলিয়ে তাঁর দায়িত্বের উপর চাপ তৈরি করেছে। তবে বর্তমানে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখছেন।