বাজারের চড়া দামের বিপরীতে অর্ধেক দামে চাল ও আটা কিনতে রাজশাহীতে সরকারি খোলাবাজারের (ওএমএস) ট্রাকের সামনে ভিড় করছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সকাল ৯টায় ট্রাক এলেও অনেকেই রাত ১২টা থেকে বা ভোরে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।
রাজশাহী নগরের চৌদ্দপাই এলাকায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সাপ্তাহিক ছুটি বাদে পাঁচ দিন করে প্রতিদিন এক টন চাল ও এক টন আটা বিক্রি করা হয়। একজন সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল ৩০ টাকায় এবং ৫ কেজি আটা ২৪ টাকায় কিনতে পারেন।
বুধপাড়া এলাকার রোজেনা বেগম রাত তিনটায় এসে লাইনে দাঁড়ান। তিনি বলেন, “একজন মানুষ কাজ করে, চার-পাঁচজন খায়। তাই না আসলে উপায় নেই। অনেক দিন পাওয়া যায় না, তাই রাতেই আসি।” মির্জাপুরের সোনাবান বেগম লাঠিতে ভর দিয়ে রাত দুইটা থেকেই লাইনে ছিলেন। আর হনুফার মোড়ের চায়না বেগম চোখ ভিজিয়ে বলেন, “আমরা কারও হক মারতে চাইনি, কিন্তু হক মেরে খাচ্ছে। সবাই যেন খেতে পারে, সেই কামনা করি।”
ওএমএস ট্রাকের লাইনে বেশির ভাগ ছিলেন প্রবীণ নারী-পুরুষ। অনেকেই টুল, পিঁড়ি বা ইট-পাথর নিয়ে বসে রাত কাটিয়েছেন।
চৌদ্দপাই এলাকার ডিলার শামীম হোসেন জানান, প্রয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ মানুষ আসেন। বাইরে দ্রব্যমূল্য বেশি হওয়ায় মানুষ এখানে ভিড় করছে। বরাদ্দ বাড়াতে আবেদন করা হয়েছে। উপ-খাদ্য পরিদর্শক রিপন আলী বলেন, “মানুষ রাত থেকে অপেক্ষা করছে, কিন্তু সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সর্বোচ্চ ২০০ জনকেই দেওয়া যায়।”
দুপুরের আগেই সব পণ্য শেষ হয়ে যায়। অনেকে খালি হাতে ফিরে যান। এক নারী মুখ ঢেকে আকুতি করলেও তখন আর চাল-আটা অবশিষ্ট ছিল না।