রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলীতে আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পের সময় একটি ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে পড়ে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এতে নিহত হন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম রাফি (২২) এবং আরও দুইজন। গুরুতর আহত হন রাফিউলের মা নুসরাত বেগম।
রাফিউল সকালে মা-কে নিয়ে মহিষের মাংস কিনতে গিয়েছিলেন। ভবনের নিচতলার “নয়নের মাংসের দোকান”-এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে ওপরের রেলিং সশব্দে ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক রাফিউলকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মা বর্তমানে চিকিৎসাধীন, তবে চিকিৎসকদের মতে তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।
এ ঘটনায় মারা যাওয়া অন্য দুইজন হলেন—
-
আবদুর রহিম (৪৮)
-
তাঁর ছেলে মেহরাব হোসেন রিমন (১২)
তারা সুরিটোলা স্কুলের পেছনে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
দুর্ঘটনার সময় ভবনে থাকা সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্র রাওনাক জানান, ভূমিকম্পে পুরো বিল্ডিং কেঁপে ওঠে। ওপর থেকে জিনিসপত্র পড়ার শব্দ পেয়ে তিনি নিচে এসে দেখেন কয়েকজন মানুষ আহত হয়ে পড়ে আছে। দ্রুত রিকশা-ভ্যানে করে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজহারুল ইসলাম খান জানান, মোট ২০ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। এর মধ্যে ৩ জন মারা গেছেন এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭, যার কেন্দ্রস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঝাঁকুনি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাফিউলের সহপাঠী ও বন্ধুদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। তারা জানায়, রাফিউল ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী ছাত্র। তাঁর অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।