google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৩,৪২৮: মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে শত শত বিক্ষোভকারী

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 15, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৩,৪২৮: মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে শত শত বিক্ষোভকারী ছবির ক্যাপশন: ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৩,৪২৮: মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে শত শত বিক্ষোভকারী
ad728

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নরওয়েভভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শত শত বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের অন্তত ১৯০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় নিহত ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ভরযোগ্যভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ধারণা, বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

আইএইচআরের তথ্যমতে, শুধু ৮ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যেই অন্তত ৩ হাজার ৩৭৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, নিহতদের বড় অংশই ৩০ বছরের কম বয়সী। এদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ও সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দাবি করেছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান ব্যবহার করছে। আহত অবস্থায় রাজপথে পড়ে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুলি করে হত্যার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। রাশত শহরের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আত্মসমর্পণের জন্য হাত তুললেও একদল তরুণ বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

কারাজ শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মরদেহের সঙ্গে সেলফি তোলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। কুর্দি-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে অঘোষিত সামরিক আইন জারি করে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও ধরপাকড় চালানো হচ্ছে।

আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, ১৯৮০-এর দশকে ক্ষমতা ধরে রাখতে ইরানের শাসকেরা যে ধরনের অপরাধ করেছিল, বর্তমানে আবারও সেই একই পথে হাঁটা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আরও হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

এদিকে নেটব্লকস জানিয়েছে, ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দেশটি কার্যত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ