google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর, হামাস বলছে—‘গাজার ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনিদের বিষয়’
ফিলিস্তিনের গাজায় বহু প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে হামাস ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো বলছে, গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের বিষয়।
শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইসলামিক জিহাদ ও পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) হামাসের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানায়। তারা জানায়, ইসরায়েল গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “যেকোনো বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। গাজার প্রশাসন ও ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নির্ধারণ করবেন ফিলিস্তিনিরা নিজেরাই—তাঁদের সম্মিলিত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে।”
সংগঠন দুটি যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে একটি ‘জরুরি জাতীয় বৈঠক’ আহ্বানেরও ঘোষণা দিয়েছে। তাদের মতে, এই বৈঠক ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধ করবে এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
এদিকে, ফাতাহ দল এই বৈঠকে যোগ দেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার ভিত্তিতেই গাজায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠিত হবে, যা গাজার অন্তর্বর্তী শাসন তত্ত্বাবধান করবে। বোর্ডটির চেয়ারম্যান থাকবেন ট্রাম্প নিজেই, সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব।
তবে গাজার ভবিষ্যৎ শাসনভার কার হাতে যাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আল–জাজিরার হাতে পাওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনুলিপি অনুযায়ী, হামাসকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি দিতে বলা হয়েছে। প্রতিদিন গাজায় অন্তত ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা আছে। এছাড়া সুপেয় পানির সরবরাহ, আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন ও পুনর্গঠনের প্রথম ধাপ হিসেবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজা নগরী থেকে ৬৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্রবেশে বাধার কারণে এখনো হাজারো ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে যেতে শুরু করায় অনেক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নিজেদের ভেঙেপড়া বাড়িঘরে ফেরার চেষ্টা করছেন।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে ত্রাণ বিতরণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যদিও বিতর্কিত সংস্থা জিএইচএফ জানিয়েছে, তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।