google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: র্যাঞ্চো’ খ্যাত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক গ্রেপ্তার: উত্তাল লাদাখে আন্দোলন
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন লাদাখের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সেই ওয়াংচুকই এখন মোদি সরকারের চোখে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর লাদাখে আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী। বর্তমানে তিনি রাজস্থানের যোধপুর সেন্ট্রাল কারাগারে বন্দী। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ) অনুযায়ী তাঁকে বিচার ছাড়াই এক বছর পর্যন্ত আটক রাখা যাবে।
জম্মু ও কাশ্মীরের মতো লাদাখকে স্থানীয় আইনসভা গঠনের অধিকার দেওয়া হয়নি। এতে লাদাখবাসীর দীর্ঘদিনের হতাশা আন্দোলনে রূপ নেয়। গত সেপ্টেম্বরে বিক্ষোভে চার তরুণ নিহত হন। ওয়াংচুকের নেতৃত্বে চলমান এই আন্দোলন ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে সাংবিধানিক সুরক্ষা দাবি করছে।
ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো বলেন, “যে সরকার তাঁকে একসময় সম্মান দিয়েছে, আজ সেই সরকারই তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলছে। তাঁকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানোই আসল উদ্দেশ্য।”
তিনি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে হেবিয়াস কর্পাস রিট করেছেন, যেখানে আদালত কেন্দ্রীয় সরকার, লাদাখ প্রশাসন ও রাজস্থানের যোধপুর জেল কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে।
লাদাখের রাজনৈতিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, সরকার আন্দোলন দমাতেই ওয়াংচুককে নিশানা করেছে। কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স নেতা সাজাদ কারগিলি বলেন, “লাদাখ চীন ও পাকিস্তানের সীমান্তঘেঁষা সংবেদনশীল অঞ্চল। সরকার স্থানীয় জনগণের সমর্থন হারাচ্ছে।”
লাদাখ প্রশাসন দাবি করছে, ওয়াংচুক আরব বসন্তের মতো সরকার উৎখাতের হুমকি দিয়েছেন এবং সহিংসতা উসকে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশ্বস্ত তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিয়েছে।”
সোনম ওয়াংচুক কেবল লাদাখেই নয়, সমগ্র ভারতে শিক্ষাসংস্কারক হিসেবে পরিচিত। তিনি ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর র্যাঞ্চো চরিত্রের অনুপ্রেরণা। লাদাখের শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার, বরফ স্তূপা উদ্ভাবন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি ম্যাগসাইসাই পুরস্কারে ভূষিত হন।
কিন্তু আজ সেই জাতীয় বীরকেই ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বানানো হয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তার লাদাখে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। স্থানীয় নেতাদের মতে, এভাবে দমননীতি চালালে লাদাখ কাশ্মীরের মতো অস্থিরতায় নিমজ্জিত হতে পারে।