google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: তারকাদের এইচএসসি ফলের গল্প: কেউ পেয়েছিলেন গোল্ডেন, কেউ খুশি গড়পড়তা ফলেও
আজ প্রকাশিত হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল। উত্তেজনা, ভয় আর প্রত্যাশায় ভরপুর এই দিনটি শুধু সাধারণ শিক্ষার্থীদের নয়, আমাদের প্রিয় তারকাদের জীবনেও একসময় ছিল বিশেষ। কেউ পেরেছিলেন উজ্জ্বল ফলাফল করতে, কেউবা পেয়েছিলেন গড়পড়তা নম্বর—কিন্তু সবারই গল্প অনুপ্রেরণার।
চলুন দেখে নেওয়া যাক, জনপ্রিয় এই তারকারা কেমন করেছিলেন তাঁদের এইচএসসি পরীক্ষায়—
২০১২ সালে বিএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন অভিনেত্রী সাফা কবির। ফলাফল প্রকাশের আগের রাতে টেনশনে ঘুমাতে পারেননি তিনি। ভয়ে ভয়ে কলেজে গিয়ে ফল জানার পর আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলেন।
তিনি বলেন, “আম্মুর জন্যই আমি পড়তাম। তাই ৪.৫০ পেয়ে সবচেয়ে খুশি হয়েছিলাম আম্মুর মুখের হাসি দেখে।”
২০২২ সালে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী ডিগ্রি কলেজ থেকে পরীক্ষা দেন পূজা চেরী। তখন তাঁর হাতে ছিল “গলুই” সিনেমার শুটিং, চলছিল প্রচণ্ড ব্যস্ততা। তিনি বলেন, “পরীক্ষার সময় শুটিং চলছিল জামালপুরে। আরও প্রস্তুতি নিতে পারলে ফল ভালো হতো।”
সব মিলিয়ে তিনি জিপিএ ৪.০৮ পেয়ে খুশি ছিলেন—কারণ তাঁর লক্ষ্য ছিল সিনেমায় ক্যারিয়ার গড়া, চাকরি নয়।
হলি ক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তাসনিয়া ফারিণ। সব সময়ই মায়ের তত্ত্বাবধানে পড়তেন তিনি। মা বলতেন, “ভালো না করলে বিকল্প ব্যবস্থা নেব।”
ফারিণ বলেন, “আমি তো মায়ের ভয়েই পড়তাম!”
ফলাফল হিসেবে পেলেন জিপিএ-৫—এবং সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় গর্বের মুহূর্ত ছিল।
বরিশাল মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষা দেন তানজিম সাইয়ারা তটিনী। বই ছিল তাঁর প্রিয় সঙ্গী। সবাই আগেই জানত, তিনি ভালো করবেন। ফলাফল জানার সময় ভয়ে হাত কাঁপলেও শেষে দেখলেন—গোল্ডেন এ প্লাস!
তিনি বলেন, “আমি ভয়ে কাঁপছিলাম। পরে যখন দেখলাম গোল্ডেন এ প্লাস, তখন মনে হয়েছিল উৎসব চলছে।”
চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও পরে অভিনেত্রী হিসেবে আলো ছড়ান তটিনী।
২০১৭ সালে বরিশাল মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি দেন সাদিয়া আয়মান। ফলাফল জানার আগে ছিলেন দুশ্চিন্তায়, কিন্তু পরে ৪.৩৯ পেয়ে সন্তুষ্ট হন।
তিনি বলেন, “আমি মনোযোগ দিয়েই পড়েছি। আমারও মনে হয়েছিল এরকমই রেজাল্ট হবে। আম্মু একটু মন খারাপ করেছিলেন, কিন্তু চাপ দেননি।”
২০১৯ সালে স্টামফোর্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি দেন দীঘি। ফলাফল ঘোষণার পর নানা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে তিনি নিজেই জানান, তাঁর জিপিএ ৩.৭৫।
দীঘি বলেন, “আমার প্রত্যাশা ছিল না। নিজের অর্জিত ফলেই খুশি আমি।”
২০১৭ সালে ঢাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে পরীক্ষা দেন হিমি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সময়ে তিনি নিজের সততা ধরে রেখেছিলেন।
তিনি বলেন, “আমার কাছে প্রশ্ন এসেছিল, কিন্তু নেইনি। ভেবেছিলাম, নিজের যোগ্যতায় খারাপ হলেও হোক।”
অবশেষে ফলাফলে তিনি ব্যাচের একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রী।
এইচএসসির ফলাফল হয়তো ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, কিন্তু তারকাদের এই গল্পগুলো দেখায়—প্রচেষ্টা, আত্মবিশ্বাস আর মনোযোগ থাকলে প্রত্যেকেই নিজের জায়গা থেকে সফল হতে পারে।