google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ফায়ার স্টেশনের জমিতে রিসোর্ট: পূর্বাচলে বিতর্কিত নির্মাণ
পূর্বাচলে ফায়ার স্টেশনের জন্য তিনটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি প্লটে ফায়ার স্টেশন তৈরি হলেও, আরেকটিতে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য স্পট’ নামের একটি রিসোর্ট। বাকি একটি প্লট এখনো খালি পড়ে আছে।
রিসোর্টটি পরিচালনা করছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সেখানে থাকা-খাওয়া, বিয়ে, গায়েহলুদসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি রাতযাপন ও ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। কর্মরত ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের জন্য বিশেষ ছাড়ও দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তার দাবি, ফায়ার স্টেশন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজউকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পূর্বাচল প্রকল্পে আবাসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্লটেও হোটেল, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট নির্মাণের অনিয়ম চলছে। রাজউক বিষয়টি জানলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, জনস্বার্থের নামে জমি বরাদ্দ নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্পূর্ণ অনৈতিক। ফায়ার সার্ভিস ও রাজউক—উভয়কেই এ অনিয়মের জন্য দায়ী করতে হবে।
রিসোর্টের ফেসবুক পেজে নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি ও প্যাকেজ প্রচার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, তিন ঘণ্টার অবস্থানসহ খাবারের একটি প্যাকেজের মূল্য ৮৯০ টাকা। আবার দিনভর থাকা, খাওয়া ও নৌকাভ্রমণসহ সেবার জন্য জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা ধরা হয়। কাপলদের জন্য দিনভর প্যাকেজের মূল্য প্রায় ৮ হাজার টাকা।
১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৯৬% ভূমি উন্নয়নকাজ শেষ হলেও পুরো প্রকল্প এখনো শেষ হয়নি। আবাসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্লট হস্তান্তর করা হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, থানা ও ফায়ার স্টেশনগুলো এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে জনসেবার পরিবর্তে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে।