google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্তকরণে শেষ পর্যায়ে—ঢাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের এক মুহূর্ত।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন চলতি সপ্তাহের মধ্যেই জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সনদে সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামত সমন্বয় করে একটি পৃথক সুপারিশ তৈরি করে অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ইতিমধ্যে সনদের প্রাথমিক ও সমন্বিত খসড়া নিয়ে দুই দফায় রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে আর মতামত নেওয়া হবে না। কমিশন খসড়া দলগুলোর কাছে পাঠাবে এবং সই করার আহ্বান জানাবে। এতে স্বাক্ষর করবে কি না, তা দলগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে দুই দফা আলোচনায় ৮৪টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। এগুলোর ভিত্তিতেই জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হচ্ছে।
সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট। বিএনপি চায় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান-সংক্রান্ত সংস্কার কার্যকর হোক, জামায়াতে ইসলামী গণভোট বা রাষ্ট্রপতির প্রোক্লেমেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পক্ষে, আর এনসিপি চায় গণপরিষদের মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়ন। খেলাফত মজলিসও প্রোক্লেমেশনের পক্ষে মত দিয়েছে, যদিও তারা গণভোটকে সময়সাপেক্ষ বলে মনে করছে। অধিকাংশ দল বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সংস্কার অধ্যাদেশ জারি করে কার্যকর করতে পারে, তবে পরে এগুলো সংসদে অনুমোদন দিতে হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে সনদের চূড়ান্ত খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, “সনদে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া থাকছে না। তবে দলগুলোর লিখিত মতামত ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলাদা সুপারিশ তৈরি করা হবে।
চূড়ান্ত খসড়ায় সনদের তিনটি অংশ থাকবে—পটভূমি, ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হওয়া প্রস্তাব এবং বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা। আগের খসড়ায় থাকা কিছু অঙ্গীকারের ভাষাগত পরিবর্তন আসতে পারে, যেমন সনদকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া বা আদালতে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না—এসব অংশে সংশোধন আনা হতে পারে।
তবে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বলেছে, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো সনদে রাখা উচিত নয়। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স মন্তব্য করেছেন, “যেসব বিষয়ে সবাই একমত, সেগুলো বাদে অন্য কিছু রাখা হলে আমাদের পক্ষে সনদে স্বাক্ষর করা কঠিন হবে।