google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে সংকটে এনসিপি, পদত্যাগ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ তীব্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতার উদ্যোগ নিতে গিয়ে গভীর সংকটে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। এরই মধ্যে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের এক সদস্য পদত্যাগ করেছেন এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছেন।
জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে শনিবার সন্ধ্যায় এনসিপি ছাড়ার ঘোষণা দেন তাসনিম জারা। তিনি দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এনসিপির জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা হিসেবে পরিচিত মীর আরশাদুল হক দল থেকে পদত্যাগ করেন।
শনিবার সন্ধ্যায় দলের প্রায় ৩০ জন নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে ‘সম্ভাব্য জোট বিষয়ে নীতিগত আপত্তি’ শীর্ষক একটি স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে এবং দলের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে এনসিপির কর্মী, সমর্থক এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও নতুন ধারার রাজনীতিতে আস্থাশীল মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি হবে। পাশাপাশি দলের মধ্যপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নেতারা নাহিদ ইসলামকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, জামায়াতের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে দলের স্পষ্ট অবস্থান থাকা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, কৌশল নির্ধারণে নীতিগত অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; কৌশলগত কারণে নীতির সঙ্গে আপস করা উচিত নয়।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন ও এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী, সদস্য তাওহীদ তানজীম ও সৈয়দা নীলিমা দোলা।
‘মধ্যপন্থী রাজনীতির’ লক্ষ্য নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির আত্মপ্রকাশ ঘটে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত অক্টোবর থেকে দলটি প্রথমে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু করে। এ বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এনসিপির নেতৃত্বের একাধিকবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তাঁর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ থাকলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।
বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এলে সম্প্রতি এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হয়। এতে করে এনসিপি, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে গঠিত ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ও ভাঙনের মুখে পড়ে। জোটের শরিক রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বিএনপি বা জামায়াত—কোনো পক্ষের সঙ্গেই যেতে রাজি নয় বলে জানা গেছে।
ভোটের রাজনীতির হিসাব–নিকাশ মেলাতে গিয়ে বড় দলের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা এনসিপির ভেতরে যে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে, সাম্প্রতিক পদত্যাগ ও বিরোধ তারই স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।