google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদকে ঘিরে জামায়াত–এনসিপি সম্পর্কের টানাপোড়েন, নাহিদের ফেসবুক পোস্টে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: জুলাই সনদকে ঘিরে জামায়াত–এনসিপি সম্পর্কের টানাপোড়েন, নাহিদের ফেসবুক পোস্টে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছবির ক্যাপশন: জুলাই সনদকে ঘিরে জামায়াত–এনসিপি সম্পর্কের টানাপোড়েন, নাহিদের ফেসবুক পোস্টে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা
ad728

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর সংস্কার আলোচনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে মতৈক্য দেখা গেলেও, জুলাই সনদে জামায়াতের স্বাক্ষর ও এনসিপির স্বাক্ষর না করার পর দুই দলের সম্পর্ক হঠাৎই শীতল হয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত এক বছরে দুটি দলের মধ্যে ‘সুসম্পর্ক’ থাকলেও এখন এনসিপির অবস্থান কেন বদলে গেল, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর না করার বিষয়টিই সম্পর্কের টানাপোড়েনের মূল কারণ।

এনসিপির অবস্থান ছিল, আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দলটি সনদে স্বাক্ষর করবে না। সরকারের পক্ষ ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ১৬ অক্টোবর রাতে এনসিপি জানিয়ে দেয়, তারা জুলাই জাতীয় সনদে সই করবে না। পরদিন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ফোন করে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি।

১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতসহ ২৪টি দল সনদে স্বাক্ষর করে। কিন্তু এনসিপি সেখানে অনুপস্থিত থাকায় দুই দলের সম্পর্কের ফাটল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


নাহিদের ফেসবুক পোস্টে কী ছিল

গত রোববার বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া এক ইংরেজি পোস্টে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, জামায়াতের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘পিআর আন্দোলন’ (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি) একটি “পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা।”

তিনি লেখেন, “গণ–অভ্যুত্থানের পর সংবিধান ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রকৃত আলোচনাকে ভিন্ন পথে সরিয়ে দিতে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে পিআর পদ্ধতির বিষয়টি সামনে এনেছে।”

নাহিদ দাবি করেন, জামায়াত কখনোই সংস্কার আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়নি, কোনো বাস্তব প্রস্তাব দেয়নি কিংবা গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিও উপস্থাপন করেনি। তাঁর মতে, “জামায়াতের সংস্কার অনুমোদন একটি কৌশলগত অনুপ্রবেশ, যা সংস্কারের ছদ্মবেশে রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদের আইনি কাঠামো চেয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াত ও তাদের সহযোগীরা একে ছিনতাই করেছে এবং দলীয় স্বার্থ উদ্ধারেই ব্যবহার করছে।”


‘বিশ্বাসভঙ্গের বোধ’ এনসিপির ভেতরে

নাহিদের পোস্টের পর এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একধরনের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। তাঁদের মতে, জামায়াত সংস্কার প্রশ্নে এনসিপিকে ‘বিশ্বাসের সঙ্গে’ গ্রহণ করলেও, পরবর্তীতে দলটি এনসিপির তৃণমূল পর্যায়ে অনুপ্রবেশ ও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।

জামায়াতের জুলাই সনদে স্বাক্ষর ও সাম্প্রতিক কার্যক্রমে এনসিপি নেতৃত্বে এক ধরনের “বিশ্বাসভঙ্গের বোধ” তৈরি হয়েছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

আরেক নেতা জানান, জামায়াতের নেতৃত্বে চলমান পিআর আন্দোলনে এনসিপিকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সব দাবিতে একমত না হওয়ায় তারা যুক্ত হয়নি। একই সঙ্গে এনসিপির দলীয় প্রতীক ‘শাপলা’ নিয়ে জামায়াত বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।


জামায়াতের প্রতিক্রিয়া

নাহিদের পোস্টকে ‘অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়,
“নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সর্বৈব মিথ্যা ও দুঃখজনক। জামায়াতের পিআর আন্দোলন প্রতারণামূলক নয়, বরং গণতান্ত্রিক সংস্কারের অংশ।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি (নাহিদ ইসলাম) তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা বোধগম্য নয়। জাতি তাঁর কাছ থেকে এ ধরনের বালখিল্য বক্তব্য আশা করে না।”

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে জামায়াত জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে। তাই নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই বলে দলটি মনে করে।


সারসংক্ষেপ

জুলাই সনদকে ঘিরে একসময়ের ঘনিষ্ঠ দুই রাজনৈতিক দল—জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি—এখন সম্পর্কের দূরত্বে অবস্থান করছে। নাহিদের ফেসবুক পোস্টে সেই বিভাজন আরও গভীর হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ