google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে একমত হতে ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলো, নির্বাচনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে এক বছরের দীর্ঘ আলোচনা শেষ হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক রাত ১১টার পর কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গণভোটের সময় নিয়ে অনড় অবস্থান ধরে রাখায় সমঝোতা হয়নি। বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট দাবি করে, আর জামায়াত ও এনসিপি নির্বাচন হওয়ার আগে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়।
ছয়টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে তৈরি জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া প্রস্তুত হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় সনদটি ঝুলে আছে। কমিশন জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অচলাবস্থা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা, এনসিপির প্রতীক সংকট এবং আন্তর্জাতিক চাপ নির্বাচনের পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। মাঠ প্রশাসনে আতঙ্ক বিরাজ করছে, সচিববিহীন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দাবি করলেও তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি নিষিদ্ধ দলের নেতাদের সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের বৈঠকও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত উত্তেজনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
রাজনৈতিক সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেও সাধারণ মানুষ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় না ফিরলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু অনিশ্চিতই নয়, বরং জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে।