google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: বিএনপির কাছে আসন ছাড়ের দাবিতে সমমনাদের তালিকা দুই শতাধিক: জোটের মধ্যে শুরু হয়েছে দরকষাকষি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলো একে একে আসন ছাড়ের তালিকা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে বিএনপির কাছে দুই শতাধিক আসনের দাবি এসেছে। আরও দল তালিকা পাঠালে এই সংখ্যা ৩০০ ছাড়াতে পারে। তবে বিএনপি সর্বোচ্চ ৫০টি আসন ছাড়ার পরিকল্পনায় আছে, ফলে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মূল প্রতিবেদন:
আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে শুরু হয়েছে আসন ভাগাভাগির জটিলতা। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জোটভুক্ত ও সমমনা কয়েকটি দল ইতোমধ্যে দুই শতাধিক আসনে দাবি জানিয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে কোন দল কত আসন পাবে। তবে বিএনপি নিজস্ব শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনগুলো ছাড়তে রাজি নয়। দলটি সর্বোচ্চ ৫০টি আসন শরিকদের দিতে চায়।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি শরিকদের ৫৮ আসন ছেড়েছিল—যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছিল ২২ এবং অন্যান্য দল ৩৬ আসন। এবারও অনুরূপ সীমিত সংখ্যক আসন ছাড়ার নীতি নিয়েছে বিএনপি।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
“সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মিত্রদের কত আসন ছাড়বে, সেটি আলোচনা ও বিবেচনার বিষয়। আমরা এমন আসনেই শরিকদের প্রার্থী দেব, যেসব আসনে জয়লাভের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।”
সূত্র জানায়, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, বিজেপি, গণফোরাম, লেবার পার্টি, এনডিএমসহ একাধিক দল মিলিয়ে মোট ২১৭টি আসনের তালিকা ইতোমধ্যে বিএনপির হাতে জমা পড়েছে। এর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ একাই ১৩৮ আসনের দাবি জানিয়েছে।
কিছু দল সরাসরি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের প্রার্থীর তালিকা দিয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি তফসিল ঘোষণার আগে আসন ভাগাভাগি ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে চান তারা।
গণতন্ত্র মঞ্চের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন,
“আমরা ১৩৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছি। শিগগিরই ৩০০ আসনের তালিকা চূড়ান্ত করব। তবে বিএনপির কাছে ছোট আকারের আসন ছাড়ের তালিকা পাঠানো হবে।”
ন্যাশনাল পিপিলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন,
“আমরা বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে মাঠে ছিলাম। জেলজুলুম সহ্য করেছি। এখন বিএনপির উচিত আমাদের মূল্যায়ন করা। প্রতিটি শরিক দল থেকে অন্তত একজনকে মনোনয়ন দেওয়া দরকার।”
এদিকে এখনও তালিকা না পাঠানো গণঅধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), **জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)**সহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও বিএনপি আলোচনা করছে। এসব দলও আসন ছাড়ের দাবি তুললে বিএনপির জন্য নিজ দলের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
উপসংহার:
যদিও বিএনপি জোট রাজনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তবে শরিকদের অতিরিক্ত আসন দাবি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমীকরণে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিএনপি যদি সর্বোচ্চ ৫০টি আসনেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে আসন ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।