google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: বিএনপির-সমাবেশে-বক্তব্য-দিয়ে-আলোচনায়-মেলান্দহের-পৌর-নির্বাহী-কর্মকর্তা
জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) মো. মনিরুজ্জামান রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তিনি সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বিএনপির কর্মী সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন এবং নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনে “সঠিক নেতা বেছে নেওয়ার” আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এমন রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া চাকরিবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
গতকাল রোববার বিকেলে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের বাটিকামারী এলাকায় বিএনপির এক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জামালপুর–৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের দলীয় প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম। এ সময় তাঁর পাশে মঞ্চে বসে বক্তব্য দেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান।
৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের সেই ভিডিও আজ সোমবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ওই কর্মকর্তা নিজেও নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিও ও কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন।
তবে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ৫ (১) ও ৫ (২) অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন না।
এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক এস এম আলমগীর বলেন, “গতকাল তিনি অফিসে আসেননি, কোনো ছুটিও নেননি। তিনি নিয়মিত পৌরসভায় উপস্থিত থাকেন না। আমি তাঁর ওই ভিডিও দেখেছি—সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এমন আচরণ করা যায় না। বিষয়টি ইতিমধ্যে মৌখিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, শিগগিরই অফিসিয়ালি জানানো হবে।”
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মনিরুজ্জামানকে বলতে শোনা যায়,
“নেতা তিনি, যিনি স্বপ্ন দেখেন এবং তাঁর কর্মীদেরও স্বপ্ন দেখান। আমরা এমন একজন নেতাকে পেয়েছি, যিনি ১৭ বছর জেগে জেগে সরিষাবাড়ীবাসীর জন্য স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁকে বাদ দিয়ে হঠাৎ অন্য কাউকে বিশ্বাস করা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“যাঁরা ইতিমধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাঁদের জন্য শুভদিন আসছে। আমি সবাইকে আহ্বান জানাই—আগামী নির্বাচনে নেতা বেছে নিতে ভুল করবেন না।”
বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি এবং পরবর্তীতে ফোন বন্ধ করে দেন।