কক্সবাজারের রামু উপজেলার সেলিনা আক্তার জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করেছেন। পিঠের বাঁকানো সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের মতো হাঁটাচলা করতে পারতেন না, আর শৈশবেই সহপাঠী ও পাড়া-প্রতিবেশীদের কুৎসিত মন্তব্যের মুখোমুখি হন। সবাই বলত, “তুমি কিছুই করতে পারবে না।”
তবে সেলিনা কখনো হাল ছাড়েননি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। সেই সময় ব্র্যাকের STAR প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি মোবাইল সার্ভিসিং শিখতে আগ্রহী হন।
প্রাথমিকভাবে অনেকেই মনে করতেন, মোবাইল সার্ভিসিং মেয়েদের পক্ষে কঠিন। কিন্তু সেলিনা সাহস নিয়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। ছয় মাসের প্রশিক্ষণে মোবাইল সার্ভিসিং, আইসি লাগানো, ডিসপ্লে ঠিক করা, চার্জিং সমস্যা সমাধান এবং অন্যান্য দক্ষতা আয়ত্ত করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে ‘বিসমিল্লাহ টেলিকম’ে চাকরি পান। শুরুতে দোকানের মালিক ও সহকর্মীরা সন্দিহান ছিলেন, কিন্তু দুই মাসের মধ্যেই তার দক্ষতা প্রমাণ হয়। এখন তিনি কর্মক্ষেত্রে প্রশংসিত, মাসে ১৫ হাজার টাকা উপার্জন করছেন এবং অল্প কিছু সঞ্চয়ও করতে পারছেন।
সেলিনা পরিকল্পনা করছেন নিজের মোবাইল সার্ভিসিং দোকান খোলার এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা নারীদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানের। তার বার্তা স্পষ্ট: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই বাধা নয়, স্বপ্ন দেখুন, চেষ্টা চালিয়ে যান, সফলতা নিশ্চিতভাবে আসবে।