google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ট্রাম্পের ‘শান্তি’র মুখোশ খুলে গেল
ভেনেজুয়েলার কট্টর সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী বাহিনীর হাতে আটক করার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। এই অভ্যুত্থান উসকানিহীন, অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ভেনেজুয়েলার ওপর সরাসরি সামরিক হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সীমাহীন ক্ষমতার এক ভয়ংকর প্রদর্শন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ওয়াশিংটন যে আগ্রাসী নীতির পথে হাঁটছে, এটি তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ। একই সময়ে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধেও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন, যা তাঁর পররাষ্ট্রনীতির আক্রমণাত্মক চরিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ট্রাম্প দাবি করছেন, ভেনেজুয়েলা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও তথাকথিত ‘অপরাধী’ অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই অভিযান। তবে ইরাক আগ্রাসনের মতোই, এবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল ও গ্যাস সম্পদ—এমন অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের ঘটনাগুলো সেই সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্পের উদ্দেশ্য শুধু কৌশলগত নয়, ব্যক্তিগতও। মাদুরোর প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শত্রুতা এবং উনিশ শতকের মনরো নীতিকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা—অর্থাৎ পুরো পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য—এই অভিযানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এই ঘটনায় লাতিন আমেরিকার দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোসহ আঞ্চলিক নেতারা আশঙ্কা করছেন, ওয়াশিংটনের এই নতুন আগ্রাসী নীতি ভবিষ্যতে তাদের দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। কিউবা, পানামা ও অন্যান্য দেশ ১৯৮৯ সালের পানামা অভিযানের পুনরাবৃত্তির শঙ্কা দেখছে।
বিশ্ব রাজনীতির বড় শক্তিগুলোও এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইরান এই অভ্যুত্থানকে নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হয়তো পুরোপুরি অসন্তুষ্ট নন, আর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের জন্য এটি একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করল—যা ভবিষ্যতে তাইওয়ান প্রশ্নে অনুসরণ করা হতে পারে।
সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তি