google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশের কারাগারে ৮২ হাজার বন্দী, চিকিৎসক মাত্র দুজন — ৪ বছরে ৯০০’র বেশি মৃত্যুর রেকর্ড

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 10, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: দেশের কারাগারে ৮২ হাজার বন্দী, চিকিৎসক মাত্র দুজন — ৪ বছরে ৯০০’র বেশি মৃত্যুর রেকর্ড ছবির ক্যাপশন: দেশের কারাগারে ৮২ হাজার বন্দী, চিকিৎসক মাত্র দুজন — ৪ বছরে ৯০০’র বেশি মৃত্যুর রেকর্ড
ad728

দেশের ৭৪টি কারাগারে বন্দীর সংখ্যা প্রায় ৮২ হাজার, অথচ তাঁদের চিকিৎসার জন্য স্থায়ী চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র দুজন। চিকিৎসক সংকট, অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা অবহেলায় প্রতি বছর গড়ে ২০০ জনের মতো বন্দী মৃত্যুবরণ করছেন।

বন্দীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার দেড় গুণের বেশি

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৪টি কেন্দ্রীয় ও ৬০টি জেলা কারাগারে মোট ধারণক্ষমতা ৪৬ হাজার, কিন্তু বর্তমানে বন্দী সংখ্যা ৮২ হাজার, যা ধারণক্ষমতার তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি।

চিকিৎসক সংকট ভয়াবহ

৭৪টি কারা হাসপাতালের জন্য অনুমোদিত চিকিৎসক পদ রয়েছে ১৪৮টি, অর্থাৎ প্রতিটি কারাগারে দুইজন করে চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে মাত্র দুইজন স্থায়ী চিকিৎসক দায়িত্বে আছেন—একজন মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে, অন্যজন রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে
বাকি পদগুলো অস্থায়ীভাবে সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে পূরণ করা হয়। এসব চিকিৎসক দিনে কয়েক ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে বিকেলে চলে যান, ফলে রাতে বন্দী অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাওয়া যায় না।

৪ বছরে মৃত্যু ৯৩৩ জন বন্দীর

কারা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৩৩ বন্দী মারা গেছেন, যার মধ্যে ২৭৫ জন কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
বছরভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা —

  • ২০২১: ২০৫ জন

  • ২০২২: ১৩২ জন

  • ২০২৩: ২২৭ জন

  • ২০২৪: ১৭৯ জন

  • ২০২৫ (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর): ১৯০ জন

চিকিৎসকরা থাকতে চান না

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক বিনীতা রায় বলেন, কারা হাসপাতালে পদোন্নতির সুযোগ নেই, পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করার সুযোগ নেই, এবং বিসিএস ক্যাডার হয়েও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হয়—এ কারণেই চিকিৎসকেরা এখানে থাকতে চান না।

চিকিৎসা অব্যবস্থার চিত্র

৭৪ কারা হাসপাতালের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ২৭টি। অনেক সময় বন্দীকে অন্য যানবাহনে হাসপাতালে পাঠাতে হয়, যেখানে অক্সিজেন সুবিধা থাকে না।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২–এর ২০০ শয্যার হাসপাতালটি লোকবলের অভাবে প্রায় অচল। চিকিৎসক ও নার্সের পদগুলো শূন্য, ফলে রাতে হঠাৎ কোনো বন্দী অসুস্থ হলে সঠিক চিকিৎসা মেলে না।

মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ

মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান বলেন, “বন্দীরা রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে তাঁদের মৃত্যু হলে এর দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। কারা হাসপাতালের দুরবস্থা বিগত ১০ বছরেও বদলায়নি।”

বিশেষজ্ঞদের মত

বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সাবেক সভাপতি মো. টিটো মিঞা বলেন, “গাদাগাদি পরিবেশে বন্দীদের চর্মরোগ, যক্ষ্মা ও টাইফয়েডের ঝুঁকি বেশি। কারাগারে পরিপূর্ণ হাসপাতাল থাকা এবং গুরুতর রোগীর জন্য দ্রুত স্থানান্তরের ব্যবস্থা অত্যাবশ্যক।”

কারা অধিদপ্তরের দাবি

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, “চিকিৎসা সংকট ও অ্যাম্বুলেন্স ঘাটতি দূর করতে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় একবার প্রস্তাব বাতিল করলেও আবারও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।”

📊 সংক্ষেপে:

  • কারাগার সংখ্যা: ৭৪

  • ধারণক্ষমতা: ৪৬,০০০

  • বর্তমান বন্দী: ৮২,০০০

  • অনুমোদিত চিকিৎসক: ১৪৮

  • স্থায়ী চিকিৎসক: ২

  • অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা: ২৭

  • ৪ বছর ৯ মাসে বন্দী মৃত্যু: ৯৩৩

🚨 চিকিৎসক সংকট, অতিরিক্ত বন্দী ও অব্যবস্থাপনার কারণে কারাগারগুলো এখন মানবাধিকার সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ