google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এইচএসসিতে, ফলাফলে বড় ধস

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 16, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এইচএসসিতে, ফলাফলে বড় ধস ছবির ক্যাপশন: ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এইচএসসিতে, ফলাফলে বড় ধস
ad728

দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সবচেয়ে কম পাসের হার রেকর্ড হয়েছে। ২০০৫ সালের পর এবারই প্রথম গড় পাসের হার নেমে এসেছে ৬০ শতাংশের নিচে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর গড় পাসের হার ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ—যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ পয়েন্ট কম। অর্থাৎ, এ বছর প্রায় ৪৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

শুধু পাসের হার নয়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমেছে। গত বছর যেখানে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৩ হাজার ২১৯ জনে।

আজ বৃহস্পতিবার এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি শাখার (ভোকেশনাল, বিএম ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স) ফলাফল একযোগে প্রকাশ করা হয়। নয়টি সাধারণ বোর্ডে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ১০ লাখ ৪৭ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ১৬৬ জন।


ফলাফলের ওঠানামা: দুই দশকের পর ধস

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) জানায়, ২০০৫ সালে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৫৯ শতাংশের কিছু বেশি। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬৪ শতাংশে এবং ২০০৮ সালে প্রায় ৭৫ শতাংশে পৌঁছায়। ২০০৯ সালে সামান্য কমে ৭০ দশমিক ৪৩ শতাংশে দাঁড়ালেও এরপর পাসের হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে।

শুধু তিন বছর—২০১৫, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে—পাসের হার ৭০ শতাংশের নিচে নেমেছিল। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সবাই উত্তীর্ণ হয়। এরপর ২০২১ ও ২০২২ সালে পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৮৪ ও ৯৫ শতাংশের ওপরে। কিন্তু ২০২৩ সালে তা নেমে আসে ৮০ শতাংশের নিচে, আর এ বছর তা কমে ৫৭ শতাংশে, যা গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।


ইংরেজি ও আইসিটিতে বেশি ফেল

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। ফলে সার্বিক ফলাফলে বড় প্রভাব পড়েছে।

গত বছর স্থগিত থাকা কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে “বিষয় ম্যাপিং” পদ্ধতিতে ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন অনেকের ধারণা ছিল, এ পদ্ধতিতে পাসের হার আরও বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা গেল—ফলাফল আরও নিম্নমুখী হয়েছে।


অন্যান্য সূচকেও পতন

এ বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪৫টি, যেখানে গত বছর ছিল ১,৩৮৮টি। অন্যদিকে, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ২০২টিতে দাঁড়িয়েছে—যা গত বছর ছিল মাত্র ৬৫টি।


‘অবশ্যই গলদ আছে’

ফলাফল ঘোষণার পর আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন,

“আমরা পরীক্ষকদের কোনো ছক বা নির্দেশনা দিইনি যে পাসের হার বাড়াতে হবে। উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে। তবে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, এটি অবশ্যই উদ্বেগজনক।”

তিনি আরও বলেন,

“আমরা এখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের দেখতে পাচ্ছি—গলদ আছে, অবশ্যই গলদ আছে। সেই জায়গাগুলো সংশোধন করতে হবে। দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সবার।”


ছবি ক্যাপশন:

  • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে মেয়ে সঙ্গে নিয়ে ফলাফল দেখছেন এক অভিভাবক।

  • রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফলাফল খুঁজছেন শিক্ষার্থীরা।

  • বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে মোবাইলে ফলাফল দেখছেন দুই শিক্ষার্থী।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ