google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিতে ধস: বাংলাদেশের স্বাবলম্বিতা ও বিকল্প বাজারে ঝুঁকে ক্ষতিতে ভারত

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 28, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিতে ধস: বাংলাদেশের স্বাবলম্বিতা ও বিকল্প বাজারে ঝুঁকে ক্ষতিতে ভারত ছবির ক্যাপশন: ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিতে ধস: বাংলাদেশের স্বাবলম্বিতা ও বিকল্প বাজারে ঝুঁকে ক্ষতিতে ভারত
ad728

ভারতের স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এলেও দেশটির পেঁয়াজ রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেও এর মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে বড় পরিবর্তন—বিশেষ করে বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার প্রচেষ্টা এবং বিকল্প উৎস হিসেবে পাকিস্তান ও চীনকে বেছে নেওয়া। ভারতের ঘন ঘন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণেই এ পরিবর্তন শুরু হয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের খাত–সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া পেঁয়াজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যেত বাংলাদেশে। কিন্তু গত আট মাসে বাংলাদেশ ভারতীয় পেঁয়াজ খুবই অল্প পরিমাণে আমদানি করেছে—যদিও ঢাকার বাজারে দাম ভারতের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এমনকি সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ কেনা কমিয়ে দিয়েছে।

রপ্তানিকারকেরা অভিযোগ করছেন, ভারতের পেঁয়াজের বীজ গোপনে অন্য দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা ওই দেশগুলোকে নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছে। এতে ভারতের দীর্ঘদিনের বাজার–আধিপত্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এইচপিইএর সাবেক প্রধান অজিত শাহ বলেন, “গুণমানের জন্য আমরা আগে অতিরিক্ত দাম নিতে পারতাম। কিন্তু যখন আমরা দীর্ঘদিন বাজারে ছিলাম না, তখন ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহকারী বেছে নিয়েছে। এখন তারা গুণমান নয়, দামের তুলনা করছে।”

২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নানা সময়ে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এসব সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোতে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয় এবং তারা বিকল্প দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে।

বাংলাদেশ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে ৭ লাখ ২৪ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করেছিল—যা ভারতের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের আমদানি নেমে এসেছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টনে। নীতি পরিবর্তনের কারণে এই নির্ভরতা কমেছে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বোর্ড অব ট্রেডের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেন, “আমরা শুধু ঐতিহ্যবাহী ক্রেতাদের হারাইনি; তারা ভারতীয় বীজ ব্যবহার করে এখন নিজেরাই পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।”

একইভাবে সৌদি আরবও ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বহু গুণ কমিয়েছে। তারা ইয়েমেন ও ইরান থেকে তুলনামূলক কম দামে পেঁয়াজ কিনছে—এ ছাড়া স্থানীয় উৎপাদনও বাড়ছে। ফিলিপাইনসও কেবল চীন থেকে না পেলে ভারতীয় পেঁয়াজ কেনে।

রপ্তানিকারকেরা এখন ভারত সরকারকে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোতে পেঁয়াজবীজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন, কারণ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও চীন—সব দেশেই ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ অত্যন্ত জনপ্রিয়, যা ভারতের কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ